দাজ্জাল এর বিস্তারিত [পার্ট ১]

দাজ্জাল

চৌদ্দশ’ বছর থেকে মােসলেম উম্মাহর ঘরে ঘরে দাজ্জাল সম্বন্ধে আলােচনা চোলে
আসছে। আল্লাহর শেষ রসুল মানবজাতির ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে যেসব কথা বােলে গেছেন,
পৃথিবীতে কি কি ঘটনা ঘােটবে সেগুলি সম্বন্ধে আভাষ ও সরাসরি যা জানিয়ে দিয়েছেন
সেগুলির মধ্যে দাজ্জাল সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণীগুলি যেমন চিত্তাকর্ষক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ও
উদ্বিগ্নকর। উদ্বিগ্নকর ও ভীতিপ্রদ এই জন্য যে দাজ্জালের শক্তি, প্রভাব ও প্রতিপত্তি
সমগ্র মানবজাতির উপর প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার কোরে ইতিহাসের মােড় ঘুরিয়ে দেবে,
সমস্ত মানবজাতিকে বিপথে চালাবার চেষ্টা কোরবে। শুধু চেষ্টা নয়, বেশ কিছু সময়ের
জন্য দাজ্জাল তার শক্তি ও প্রভাব বিস্তার কোরে গােটা মানবজাতিকেই বিপথে
পরিচালিত কোরবে। কাজেই দাজ্জালকে কোনভাবেই ছােট কোরে দেখার বা অবজ্ঞা
করার উপায় নেই।

দাজ্জালের পরিচয়

আল্লাহর রসুল বােলেছেন- আদমের সৃষ্টি থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এমন কোন
বিষয় বা ঘটনা হবে না, যা দাজ্জালের চেয়ে গুরুতর ও সংকটজনক। তিনি এ
কথাও বলেছেন যে- নুহ (আঃ) থেকে নিয়ে কোন নবীই বাদ যান নি যিনি তাঁর
উম্মাহকে দাজ্জাল সম্বন্ধে সতর্ক করেন নি। শুধু তাই নয়, আল্লাহর নবী নিজে
দাজ্জালের সংকট (ফেনা) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন।
চিন্তা করার বিষয় হােচ্ছে, যে ব্যাপারটা মানবজাতির সৃষ্টি থেকে নিয়ে ধ্বংস পর্যন্ত
যা কিছু ঘােটবে সে সমস্ত কিছুর চেয়ে বড়, গুরুত্বপূর্ণ, যে বিষয় সম্বন্ধে নুহ (আঃ) ও
তাঁর পরবর্তী প্রত্যেক নবী তার জাতিকে সতর্ক কোরে গেছেন এবং যা থেকে শেষ ও
সর্বশ্রেষ্ঠ নবীও আল্লাহর কাছে আশ্রয় পানাহ্) চেয়েছেন সেটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ,
বিরাট (হাদীসে বিশ্বনবী “আকবর” শব্দ ব্যবহার কোরেছেন) এবং আমরা সে সম্বন্ধে
কতটুকু সজাগ ও সচেতন? বাস্তব অবস্থা এই যে আমরা মােটেই সজাগ নই এবং নই
বােলেই আমরা বুঝছিনা যে ৪৭২ বছর আগেই দাজ্জালের জন্ম হােয়েছে এবং সে 
১। হাদীস- এমরান বিন হােসায়েন (রাঃ) থেকে মােসলেম।
২। হাদীস- আবু ওবায়দা বিন যাররাহ (রাঃ) ও আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) থেকে আবু দাউদ,
বােখারী, মােসলেম ও তিরমিযি ।
৩। হাদীস- আয়েশা (রাঃ) থেকে বােখারী।
তার শৈশব,কৈশাের পার হােয়ে বর্তমানে যৌবনে আছে এবং এও বুঝছিনা যে। সমস্ত পৃথিবীসহ আমরা মােসলেমরাও দাজ্জালকে রব, প্রভু বােলে স্বীকার কোরে নিয়েছি ও তার পায়ে সাজদায় পােড়ে আছি। প্রকৃত দীন থেকে বিচ্যুত হার শাস্তি। হিসাবে আল্লাহ এই জাতিকে (যেটা নিজেদের মােসলেম বােলে পরিচয় দেয় ও নিজেদের মোসলেম বােলে বিশ্বাস করে। কয়েক শতাব্দীর জন্য ইউরােপের খৃষ্টান জাতিগুলির দাসে পরিণত কোরে দিয়েছিলেন এবং ঐ দাসত্বের সময়ে প্রভূদের প্রবর্তিত শিক্ষার ফলে। প্রকৃত দীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। কাজেই দাজ্জাল সম্বন্ধে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। এরা আব্রাহাম লিংকনের কয়টা দাঁত ছিলাে তা জানেন, শেক্সপিয়ের থেকে
অনর্গল আবৃত্তি কোরতে পারেন, কিন্তু আল্লাহর রসুল যে মানবজাতির জীবনে দাজ্জাল
নামে এক মহাবিপদ আবির্ভূত হবার ভবিষ্যদ্বাণী কোরে গিয়েছেন তা তাদের কাছে এক
কৌতুকপূর্ণ সংবাদ। এই জাতির যে অংশটা কোরান-হাদীস পড়েন তারা ছাড়া দাজ্জাল
সম্বন্ধে কেউ চিন্তা-ভাবনাও করেন না, কোন গুরুত্বও দেন না। ঐ যে অংশটা কোরান-
হাদীস নাড়াচাড়া করেন সেই অংশও দাজ্জালকে নিয়ে মাথা ঘামান না, প্রকৃতপক্ষে
দাজ্জাল কী তা বুঝতে চেষ্টা করেন না। কারণ তাদের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে তারা।
অপেক্ষায় আছেন যে আখেরী যমানায় বিরাট এক ঘােড়ায় চড়ে এক চক্ষু বিশিষ্ট এক
দানব পৃথিবীতে আবির্ভূত হবে। যে হাদীসগুলিতে রসুলাল্লাহ দাজ্জাল সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী
কোরেছেন সেগুলির শাব্দিক অর্থকেই তারা গ্রহণ কোরেছেন, তার বেশী আর তারা
তলিয়ে দেখেন নি বা দেখতে পারেন নি। ঘটনাটিকে আখেরী নবী আদম (আঃ)
থেকে কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য সবচেয়ে গুরুতর ও সাংঘাতিক ঘটনা।
বােলে চিহ্নিত কোরেছেন সেই মহা-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তারা কোনও গভীর
গবেষণা করেন নি। এই মহা-প্রয়ােজনীয় ব্যাপারটাকে বােঝার জন্য যতটুকু শ্রম
দিয়েছেন তার চেয়ে লক্ষ গুণ বেশী শ্রম ও সময় দিয়েছেন দাড়ি-মােছ, টুপি-পাগড়ী,
পাজামা, মেসওয়াক, কুলুখ আর বিবি তালাকের মত তুচ্ছ ফতওয়ার বিশ্লেষণে ।।
অন্যান্য সবার মত আমিও অপেক্ষায় ছিলাম আখেরী যমানায় বিরাট আকারের এক
ঘােড়ায় উপবিষ্ট এক চোখ অন্ধ এক দানবের, এবং তার রব, প্রভু হবার দাবির। এই
আকীদায় প্রথম ধাক্কা পেলাম মােহাম্মদ আসাদ নামের এক ভদ্রলােকের লেখা রােড টু।
মেক্কা (Road to Mecca) বইটিতে। এই লেখকের নাম ছিলাে Leopold Weiss
(লিওপােল্ড ওয়াইস), ইনি অস্ট্রিয়ার এক ইহুদী পুরােহিত পরিবারে জন্মগ্রহণ কোরলেও
আল্লাহ ও তার রসুলের রহমে যুবক বয়সেই দীনুল এসলাম গ্রহণ করেন ও শেষ জীবনে।
সুন্দর তফসিরসহ কোরানের অনুবাদ করেন যেটা লন্ডন থেকে প্রকাশিত হােয়েছে।
দাজ্জাল সম্বন্ধে লিখতে যেয়ে তিনি তার ঐ বইয়ে বােলেছেন যে পাশ্চাত্য বস্তুবাদী।
সভ্যতাই হােচ্ছে বিশ্বনবী বর্ণিত দাজ্জাল । দুঃখের বিষয় মােহাম্মদ আসাদ ঐটুকু বােলেই ক্ষান্ত হােয়েছেন, আর কোন গবেষণা করেন নি। বইটি পড়েছিলাম খৃষ্টীয় উনিশ
* পঞ্চাশ দশকের শেষ বা ষাট দশকের প্রথম দিকে। তারপর যতই ও সম্বন্ধে ভেবেছি
ততই পরিষ্কার হােয়েছে যে মােহাম্মদ আসাদ ঠিকই বুঝেছেন। রসুলাল্লাহর সময়ের
নিরক্ষর আরবদের যান্ত্রিক সভ্যতার প্রযুক্তিগত কৌশলের ওপর ভিত্তি করা মহা-
শক্তিশালী সভ্যতা সম্বন্ধে বােঝাবার চেষ্টা অবশ্যই অর্থহীন হােতাে, তাদের পক্ষে তা
বােঝা মােটেই সম্ভব ছিলাে না। তাই আল্লাহর নবী এটাকে তাদের কাছে রূপকভাবে
(Allegorically) বর্ণনা কোরেছেন। চৌদ্দশ বছর আগের নিরক্ষর আরবদের পক্ষে
সম্ভব না হােলেও বর্তমানে দাজ্জাল সম্বন্ধে মহানবীর ভবিষ্যদ্বাণীগুলি যাচাই কোরলে
সন্দেহের কোন স্থান থাকে না যে মহাশক্তিধর পাশ্চাত্য বস্তুবাদী সভ্যতাই হােচ্ছে।
আল্লাহর রসুল বর্ণিত সেই নির্দিষ্ট দাজ্জাল।
বিশ্বনবীর দাজ্জাল সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণীগুলির উৎস হচ্ছে হাদীস। সবাই জানেন যে
হাদীসের বেশ কয়েকটি শ্রেণী আছে। এর মধ্যে প্রধান তিনটি প্রথম শ্রেণী হােল সহিহ
অর্থাৎ সঠিক। দ্বিতীয় হােল হাসান, এটাও সঠিক কিন্তু প্রথম শ্রেণীর মত নয়। তৃতীয়
হােল দয়ী অর্থাৎ দুর্বল, কিন্তু দয়ীফ হােলেও গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়াও হাদীসের
গরীব, মুনকার, মারুফ ইত্যাদি আরও অনেক শ্রেণী আছে। হাদীসের সত্যতা-
অসত্যতা যাচাইয়ের কঠিন প্রক্রিয়ায় যেমন বহু অসত্য, বানােয়াট হাদীস
পরিত্যক্ত হােয়েছে, তেমনি অনেক সত্য হাদীসও সত্য হওয়া সত্ত্বেও এসনাদের
অভাবে বাদ পােড়ে গেছে। কোন একটি বিষয়ে পূর্ণ ধারণা করার জন্য প্রয়ােজন ঐ
বিষয়টি (Subject) সম্বন্ধে সহিহ, হাসান, দয়ীফ, এমন কি পরিত্যক্ত হাদীসও
পর্যালােচনা কোরে একটি সম্যক ধারণা করা । তাতে ঐ বিষয়টি সম্বন্ধে একটি পূর্ণ চিত্র
মনে ফুটে ওঠে। দাজ্জাল সম্বন্ধে আলােচনাতেও আমি এই নীতিই গ্রহণ কোরেছি, যদিও
ভিত্তি অবশ্যই রােয়েছে সহিহ হাদীসগুলির ওপর।
দাজ্জাল সম্বন্ধে মহানবীর হাদীসগুলিকে আমি দু’টো ভাগে ভাগ কোরেছি। একটা
ভাগ দাজ্জালের আবির্ভাবের গুরুত্বের ব্যাপারে, অন্যটি দাজ্জালের পরিচয়জ্ঞাপক।
মানবজাতির জীবনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, সর্ববৃহৎ বিপদের সম্বন্ধে মানুষ বেখেয়াল ও
নিরুদ্বেগ। যারা ধর্মের ব্যাপারে মহা-আলেম হােয়েছেন ও ধর্মচর্চার মধ্যে ডুবে আছেন
তারাও সংকীর্ণ ও প্রায়ান্ধ দৃষ্টির জন্য দেখতে ও বুঝতে সক্ষম হন নি যে দাজ্জালের
আবির্ভাব মানবজাতি ধ্বংসকারী নুহের (আঃ) মহাপ্লাবনের চেয়েও, প্রলয়ঙ্করী বিশ্বযুদ্ধের
চেয়েও কেন বড় (আকবর) ঘটনা; কেন মহাভারতে বর্ণিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের (যদি সে
ঘটনা সত্য হােয়ে থাকে) চেয়েও সাংঘাতিক, যে যুদ্ধে আঠারাে অক্ষৌহিণী অর্থাৎ প্রায়
এক কোটি আদম সন্তান নিহত হয়েছিলাে। অন্য ভাগের হাদীসগুলিতে আল্লাহর শেষ
রসুল মানবজাতি যেন দাজ্জালকে ঠিকভাবে চিনতে পারে ও সাবধান হয়, দাজ্জালকে
প্রত্যাখ্যান করে, তার বিরােধিতা করে, সে জন্য তার পরিচিতির জন্য চিহ্নগুলি
বােলেছেন। কিন্তু তার সময়ের মানুষের শিক্ষার স্বল্পতার জন্য তাকে বাধ্য হােয়ে
দাজ্জালকে রূপকভাবে বর্ণনা কোরতে হােয়েছে। কিন্তু সে রূপক বর্ণনা আজ
পরিস্কারভাবে ধরা দিয়েছে, যদিও আমাদের প্রায়ান্ধ দৃষ্টির জন্য সে বর্ণনাও আমরা
বুঝতে সক্ষম হােচ্ছি না, দাজ্জালকে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে ও দাজ্জালের পায়ে
সাজদায় পােড়ে থেকেও বুঝতে পারছিনা যে এই সেই বিশ্বনবী বর্ণিত দাজ্জাল, মাসীহ
উল কায্যাব।
প্রথমেই দাজ্জালের নামটাকে নেয়া যাক। আল্লাহর রসুল একে দাজ্জাল নামে।
অভিহিত কোরেছেন। কিন্তু এটা কোন নাম নয়, এটা একটা বর্ণনা, অর্থাৎ বিষয়টার
বর্ণনা। যেমন এমাম মাহদী কোন নাম নয়- বর্ণনা । মাহদী অর্থ হেদায়াহ প্রাপ্ত, যিনি
সঠিক পথ, হেদায়াহ পেয়েছেন, তাঁর নিজের অন্য নাম থাকবে সবার মত। তেমনি
দাজ্জাল শব্দের অর্থ চাকচিক্যময় প্রতারক, যেটা বাইরে থেকে দেখতে খুব সুন্দর কিন্তু
ভেতরে কুৎসিত। যেমন মাকাল ফল, দেখতে অতি সুন্দর, মনে হবে খেতেও অতি
সুস্বাদু, কিন্তু আসলে খেতে বিস্বাদ, তিক্ত। পাশ্চাত্য যান্ত্রিক সভ্যতা বাইরে থেকে
দেখতে চাকচিক্যময়, এর প্রযুক্তিগত সাফল্য মানুষকে মুগ্ধ কোরে ফেলে, চোখ ধাঁধিয়ে
দেয়, কিন্তু এর প্রভাবাধীন পৃথিবী সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবিচারে, দুঃখে,
ক্রন্দনে, অশ্রুতে ভরপুর। বিগত শতাব্দীতে এই সভ্যতা’ দুইটি বিশ্বযুদ্ধ কোরে চৌদ্দ
কোটি আদম সন্তান হতাহত কোরেছে এবং তারপর থেকে বিভিন্ন ছােট খাটো যুদ্ধে
আরও দুই কোটি মানুষ হত্যা কোরেছে। আহত বিকলাঙ্গের সংখ্যা ঐ মােট সংখ্যার
বহুগুণ । বিধবা, সন্তানহারা, গৃহহারা, দেশত্যাগীদের কোন হিসাব নেই। আর এই
নতুন শতাব্দীতে শুধু এক ইরাকেই হত্যা কোরেছে দশ লক্ষ মানব। ইরাক ছাড়াও
আফগানিস্তানসহ আরও অনেকগুলাে দেশে তার এই হত্যাযজ্ঞ আজও চোলছে। এই
সভ্যতার অধীনস্ত সমস্ত পৃথিবীতে খুন, চুরি, ডাকাতি, হাইজ্যাক, ধর্ষণ, অত্যাচার
সীমাহীন এবং প্রতিদিন প্রতি দেশে ধা ধা কোরে বেড়ে চোলেছে। তাই এর নাম
দাজ্জাল, চাকচিক্যময়, চোখ ধাঁধানাে প্রতারক।
দাজ্জালের আবির্ভাবের গুরুত্ব
আল্লাহর রসুল বােলেছেন- আদমের সৃষ্টি থেকে নিয়ে শেষদিন (অর্থাৎ
কেয়ামত) পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে ও ঘােটবে তার মধ্যে দাজ্জালের চেয়ে
বড় আর কিছু ঘােটবে না। [এমরান বিন হােসায়েন (রাঃ) থেকে মােসলেম]
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদীস, কারণ দাজ্জালের আবির্ভাবের গুরুত্বের কথা বােঝাতে
যেয়ে বিশ্বনবী শব্দ ব্যবহার কোরেছেন ‘আক’, অতি বড় । আরও গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য
যে আদমের (আঃ) সৃষ্টি থেকে কেয়ামত অর্থাৎ মানবজাতির সৃষ্টি থেকে শেষ পর্যন্ত
সময়ের মধ্যে সর্ববৃহৎ, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হওয়াটা কম কথা নয়, নিঃসন্দেহে বলা
যায় সাংঘাতিক, কারণ মানবজাতির জীবনে নুহের (আঃ) সময়ে মহাপ্লাবনে সমস্ত
পৃথিবী ডুবে যেয়ে মানবজাতিসহ সব প্রাণী, পশুপক্ষী ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলাে। দু’টি
বিশ্বযুদ্ধে অল্প সময়ের মধ্যে কমপক্ষে চৌদ্দ কোটি মানব হতাহত হয়েছে, ইতিহাসের
আগে আরও অমন সর্বনাশা বিপর্যয় হয়তাে হােয়েছে। অথচ মহানবী বােলছেন, ও সব
কিছুর চেয়েও সাংঘাতিক ব্যাপার হবে দাজ্জালের আবির্ভাব। মানবজাতির অতীতে কি
কি ঘটনা ঘেটেছে তা আল্লাহ তাঁর রসুলকে জানিয়ে দিয়েছেন, কোরানই তার প্রমাণ
আর ভবিষ্যতে কি কি ঘােটবে তাও যে তাঁর রসুল জানতেন তার প্রমাণ দাজ্জাল ও
অন্যান্য বহু ব্যাপার সম্বন্ধে তার ভবিষ্যদ্বাণী । দাজ্জালের আবির্ভাবের গুরুত্বের কথা
বলার সময় অতীতে নুহের (আঃ) মহাপ্লাবনের কথা বা ভবিষ্যতে বিশ্বযুদ্ধের কথা
তার মনে ছিলাে না এ কথা অসম্ভব। কারণ তিনি সাধারণ লােক ছিলেন না। তিনি
ছিলেন আল্লাহর রসুল, তার প্রতিটি কথা, প্রতিটি শব্দ ভেবেচিন্তে বলা । কাজেই এ এক
সাংঘাতিক ভবিষ্যদ্বাণী এবং এমন মানুষের ভবিষ্যদ্বাণী যা অব্যর্থ, মিথ্যা হােতেই পারে
না। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার সম্বন্ধে আমরা বেখেয়াল, উদাসীন কিন্তু এর চেয়ে।
তুচ্ছ হাজারও বিষয় নিয়ে তুলকালাম কোরছি। এবার দেখা যাক দাজ্জাল অর্থাৎ
জড়বাদী, যান্ত্রিক ইহুদী-খৃষ্টান সভ্যতার (Meterialistic, Technological
Judeo-Christian Civilization) আবির্ভাব মানবজাতির জীবনে।
সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে বিপজ্জনক ঘটনা কেন? এর গুরুত্ব ঠিকভাবে বুঝতে গেলে
আমাদের আদমের (আঃ) অর্থাৎ মানবজাতির সৃষ্টির সময়ে ফিরে যেতে হবে।
মহাকাশ, সেই মহাকাশে অগণ্য ছায়াপথ (Galaxy), নীহারিকা (Ncbula),
অসংখ্য সূৰ্য্য, চাদ, গ্রহ, এক কথায় এই মহাবিশ্ব আজ পর্যন্ত যার শেষ পাওয়া যায়নি,

কপিরাইটঃ Unmask The Truth অনুুুমতি ব্যতীত শুুুুধুমাত্র শেয়ার করা যাবে।

ব্লগ এর বাকি অংশ (শুধু পার্ট ২) এনিটেকবিডি প্রকাশিত হবে।

Comment Here